নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা-মাহিনী-হাসানপুর-বক্সগঞ্জ সড়কের বেহাল দশায় চরম ভোগান্তি

বশির আহমেদ,  নাঙ্গলকোট: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা-মাহিনী-হাসানপুর-বক্সগঞ্জ সড়কের বেহালদশায় উপজেলার পুর্ব দক্ষিনাঞ্চলের লক্ষ্যাধিক মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটিতে অসংখ্য ছোট-বড় খানা-খন্দকের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বাঙ্গড্ডা থেকে মাহিনী পর্যন্ত এলাকাটি সবচেয়ে খারাপ অবস্হায় রয়েছে। ছোট-বড় খানা-খন্দকে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে নাকাল হতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ন গর্তে পড়ে গাড়ি উল্টে যাত্রী এবং চালক আহত হচ্ছে। গত দুই বছর থেকে সড়কটির বেহাল দশা বিরাজ করায় এলাকাবাসীকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের উপর বসা বিভিন্ন বাজার গুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে বড়-বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

সড়কের শুভপুর গ্রাম থেকে বক্সগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকার অবস্হাও খুব খারাপ।

সরেজমিনে সড়কটি গুরে দেখা যায়, সড়কটির বাঙ্গড্ডা পূর্ব বাজার, রায়কোট, মাহিনী তালতলা, মাহিনী বাজার, ঝাটিয়াপাড়া বাজার, তুলাতুলী বাজার, মৌকারা চৌরাস্তা, দক্ষিণ পাড়া, আলিয়ারা উত্তরপাড়া, মধ্যপাড়া, ঢালুয়া বাজার, আজিয়ারা, শুভপুর নামকস্থানের বড়-বড় গর্ত গুলো যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গর্তগুলো পানি এবং কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে। সড়কটির ছোট-বড় খানা-খন্দক দিয়ে যাত্রীবাহি বাস, মালবাহি ট্রাক, ট্রাকটর, পিকআপভ্যান, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেলকে হেঁলে-দুলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে সকল ধরনের যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় খানা-খন্দকে পড়ে যাত্রীদের আহত হওয়াসহ যানবাহন নষ্ট হতে দেখা যায়। খানা-খন্দকে আটকে যাওয়া যাত্রীবাহি বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা এবং মালবাহী ট্রাক-ট্রাকটর ও পিকআপ ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে পার করতে হয়। অনেক সময় বড়-বড় খানা-খন্দকে পড়ে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কটি দিয়ে অসুস্থরোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সড়কটি দিয়ে এলাকাবাসী জেলা শহর কুমিল্লা, ফেনী, চৌদ্দগ্রাম হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রামে নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোটের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা এবং নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। অনেকটা বিপদে না পড়লে সড়কটি দিয়ে কেউ যাতায়াত করতে চান না। অনেকে বিকল্প পথে কুমিল্লা, ফেনী এবং নাঙ্গলকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন।

বাঙ্গড্ডা বাজারের ব্যবসায়ী একরামুল হক বলেন, সড়কটির প্রবেশমুখ বাঙ্গড্ডা পূর্ব বাজার বটতলায় সবচাইতে বেহাল দশা বিরাজ করছে। বড়-বড় খানা-খন্দকে পানি জমে সড়কটি যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কটিতে বড়-বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়।

বাঙ্গড্ডা-হাসানপুর সড়কে যাতায়াতকারী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালক রাজন হোসেন মিয়াজী বলেন, গত দুই বছর থেকে সড়কটির বেহাল দশায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কটিতে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দকের কারণে যাত্রীরা গাড়িতে উঠতে চায় না। কয়েকদিন পর-পর গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।

শাহ আলী সুপার সার্ভিসের ড্রাইভার ইমান হোসেন বলেন, সড়কটির বাঙ্গড্ডা থেকে হাসানপুর পর্যন্ত বেহাল দশায় যাত্রী পরিবহনে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই খানা-খন্দকে পড়ে গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। সড়কটির বেহাল দশায় যাত্রীরা গাড়িতে উঠতে চায় না। আমাদেরকে প্রতিনিয়ত লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (লাকসাম শাখা) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজিম উদ্দিন বলেন, সড়কটি পরিদর্শন করে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে বেহাল দশার বিষয়টি জানানো হয়েছে। আগামী জুলাই-আগষ্টে সড়কটি মেরামতের জন্য প্রাক্কলন ব্যয় তৈরী করে মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.